Saturday May 25, 2013
HEADLINE
লোক ঠেকাতে সারা দেশে ধরপাকড়
10 June 2012, Sunday, 11:25:17 pm
সেই ১২ মার্চের আগের পরিস্থিতি। বিএনপির ডাকা ১২ মার্চের মহাসমাবেশের আগে যেভাবে পুলিশ পথে পথে বাধার সৃষ্টি করেছিল, এবারো সেই একই অবস্থা। বিরোধী দলের ডাকা কর্মসূচিতে আজ যাতে কর্মী-সমর্থকেরা যোগ দিতে না পারেন সে জন্য পুলিশ বিভিন্ন পয়েন্টে পাহারা বসিয়েছে। বরিশাল থেকে ঢাকাগামী সব লঞ্চ গতকাল হঠাৎ করেই পুলিশ বন্ধ করে দিয়েছে। যদিও পুলিশ লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেয়ার পেছনে আবহাওয়ার কারণ দেখিয়েছে। কোনো কোনো রুটের বাস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ট্রেনযাত্রীদেরও তল্লাশি করা হচ্ছে এবং সন্দেহজনক কাউকে পেলে তাকে ট্রেনে চড়তে দেয়া হয়নি বলে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে খবর এসেছে। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গতকাল ও এর আগের রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এটা তাদের রুটিন গ্রেফতার। ইসলামী ছাত্রশিবির বলেছে, তাদের ১৩ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ছয়জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সারা দেশে একই ধরনের গ্রেফতার-হয়রানি চলছে। চট্টগ্রাম, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাতক্ষীরা ও মেহেরপুরে দলগুলোর দুই শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আজ সোমবার নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ১৮ দলীয় জোটের সমাবেশ। এই সমাবেশকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার নামে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দিন ধরে তল্লাশি ও গ্রেফতার অভিযান চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। সূত্র জানায়, গত কয়েক দিনে সমাবেশের লিফলেট বিতরণ করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছেন বেশ কয়েকজন। পুলিশ বিরোধী দলের নেতাকর্মী সন্দেহে অনেককে গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে। গত শনিবার দিনভর পুলিশ ও সাদা পোশাকধারীরা নয়াপল্টনের বিএনপি কার্যালয়ের সামনে গ্রেফতার অভিযান চালায়। সেখান থেকে এস এম জিলানীসহ প্রায় অর্ধশত কর্মী-সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার রাতেও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় এবং বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার গভীর রাতে রাজধানীর আনন্দ বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক বাবু খান এ্যানীকে। পুলিশ ওই এলাকায় আরো কয়েকটি বাসায় অভিযান চালায় বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করার জন্য। লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচরে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানা যায়।
শনিবার রাতে রাজধানীর মহাখালী এলাকার এক বাসা থেকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ১৩ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ছয়জনকে বনানী থানায় সোপর্দ করা হলেও বাকি সাতজন কোথায় আছেন গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত সে সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে র‌্যাব-১ ওই ১৩ জনকে আটক করে। গতকাল রাতে বনানী থানার ডিউটি অফিসার এএসআই প্রবীর জানান, র‌্যাব সন্দেহজনকভাবে কয়েকজনকে দিয়ে গেছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতকাল বিকেল থেকে ঢাকার সাথে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ অনেকটা অচল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ঢাকায় আসা বাস ও লঞ্চ আটকে দেয়া হয়। গতকাল বিকেলে হঠাৎ করেই পুলিশ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন লঞ্চ টার্মিনালে গিয়ে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেয়। পুলিশ আবহাওয়ার কারণ দেখিয়ে বলেছে আবহাওয়া ভালো না থাকায় লঞ্চগুলো ছাড়তে দেয়া হচ্ছে না। হঠাৎ করে এভাবে লঞ্চ বন্ধ করে দেয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েন। তারা যখন বাস টার্মিনালে ছুটে যান তখন দেখেন বাসও বন্ধ। সাধারণ যাত্রীরা বলেছেন, এভাবে মানুষকে হয়রানির কোনো যুক্তি নেই।